logo
অনলাইন ট্রেনিং যেভাবে তৈরি করলো বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন অ্যাথলেট

অনেক সীমাবদ্ধতার পরও অনেকে স্বপ্ন দেখেন খেলাধুলায় সর্বোচ্চ সাফল্য পাওয়ার। পড়াশোনা-সহ নানা ব্যস্ততার কারণে অনেকের অনুশীলনের পর্যাপ্ত সময় নেই, কোন কোচিং একাডেমিতে ভর্তি হওয়ার মতো অনেকের আর্থিক সঙ্গতি থাকে না আবার অনেক ক্ষেত্রে ধারেকাছে ভালো কোচ/প্রশিক্ষক পাওয়া যায় না। অনেকের স্বপ্ন তাই অঙ্কুরেই নষ্ট হয়ে যায়। কিন্তু, তথ্য-প্রযুক্তির সুবিধা নিয়ে এসব সীমাবদ্ধতাকে পাশ কাটিয়ে সেরা সাফল্য পাওয়া সম্ভব। ইন্টারনেটে শুধুমাত্র ইউটিউব দেখে বিশ্ব জয় করেছেন এমন গল্প আছে ক্রীড়া বিশ্বে।   

জুলিয়াস ইয়োগো: অনলাইনে ট্রেনিং নিয়ে বিশ্ব জয় করেছেন এ কেনিয়ান

জ্যাভলিন বা বর্শা নিক্ষেপের প্রতি ছেলেবেলা থেকেই দারুন আগ্রহ ছিল জুলিয়াসের, স্বপ্ন দেখতেন একদিন অলিম্পিকে দেশকে স্বর্ণ এনে দিবেন। কিন্তু, সীমাবদ্ধতা অনেক। সবচেয়ে বড় বাঁধা জুলিয়াসের বাড়ির পাশে কোন ক্লাব নেই, একাডেমি দূরে থাক কোন কোচও থাকেন না তার এলাকায়। কিন্তু দমে যায়নি ছোট্ট জুলিয়াস ইয়োগো। সমবয়সী অন্যরা যখন বাড়ির পাশের সাইবার ক্যাফেতে ইন্টারনেটের রঙ্গীন দুনিয়ায় মজে থাকতো, তখন ইউটিউবে জ্যাভলিন বা বর্শা নিক্ষেপের ভিডিও দেখতো জুলিয়াস। 

video

নরওয়ের আন্দ্রিয়াস থোরকিলডসেন কিংবা চেক প্রজাতন্ত্রের ইয়ান জেলেজনির মতো তারকা অ্যাথলেটদের জ্যাভলিন থ্রো কিংবা বর্শা নিক্ষেপের ভিডিও দেখে নিজের হাতেখড়ি নিয়ে নেয় জুলিয়াস। এরপর আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি। কেনিয়ার বয়সভিত্তিক সব জাতীয় আসরে জ্যাভলিন থ্রো’তে সেরার পুরষ্কার জেতেন। ৯২.৭২ মিটার দূরত্ব পাড় করে আফ্রিকার রেকর্ড গড়েন জুলিয়াস ইয়োগো। ২০১৫’র আন্তর্জাতিক অ্যাথলেটিক চ্যাম্পিয়নশিপে স্বর্ণ পদক জিতে কেনিয়াকে অলিম্পিকে স্বর্ণ এনে দেয়ার স্বপ্ন দেখিয়েছিলেন জুলিয়াস ইয়োগো। ২০১৬ রিও অলিম্পিকে অবশ্য জেতেন রৌপ্য পদক। সবকিছু ঠিক থাকলে হয়তো স্বর্ণ পদকই জিততে পারতেন কিন্তু, হ্যামস্ট্রিং চোটের কারণে রৌপ্য পদক নিয়ে সন্তুষ্ট থাকতে হয় এ কেনিয়ানকে। 

অনলাইনে খেলা শিখতে আগ্রহী হলে CLICK করুন

 

পছন্দের ইভেন্ট আগেই বাছাই করুন ছেলেবেলা থেকেই প্রস্তুত করুন নিজেকে

ছেলেবেলায় প্রায় সবাই সব ধরনের খেলায়ই নিজেকে জড়িয়ে রাখেন। পাড়া-মহল্লায় বন্ধুদের সঙ্গে ফুটবল-ক্রিকেট-ব্যাডমিন্টন কোন কিছুই বাদ যায় না। তবে, সত্যিকার অর্থে চূড়ান্ত সাফল্য পেতে নিজের পছন্দের ইভেন্ট আগেই বেছে নেয়া উচিত। শৃঙ্খলার মধ্যে পছন্দের ইভেন্ট চালিয়ে যাওয়া দরকার।  

নিজের স্কিল/দক্ষতা বাড়ানোর টেকনিক, ট্রেনিং ড্রিল, খাদ্যাভাস, মানসিকভাবে নিজেকে তৈরি করা, এসব পরামর্শ সাধারণত কোচরা দিয়ে থাকেন। আর এসবের সঠিক চর্চার মাধ্যমে গড়ে উঠেন একজন বড় মাপের অ্যাথলেট কিংবা ক্রীড়াবিদ। তোমার সঙ্গে থেকে তোমাকে প্রস্তুত করবেন কোচ এমন কিন্তু বাধ্যবাধকতা নেই। তোমার দরকার দেশসেরা/বিশ্বসেরা কোচের পরামর্শ। সেটা তুমি যে মাধ্যমেই পাও না কেন? এমনও হতে পারে অনলাইনে ভিডিও পোস্ট করে কোচ তোমার দরকারি সব পরামর্শ দিয়ে রেখেছেন। ঘড়ি ধরে তোমাকে কোচের কাছে যাওয়ার একদমই দরকার নেই। বরং তোমার সময় মতো তুমি ভিডিওগুলো দেখে নিজের প্রশিক্ষণ চালিয়ে নিতে পারো। 

তুমি দেশের যে প্রান্তেই থাকো না কেন, তুমি চাইলে অনলাইন ক্লাশে যোগ দিতে পারো। পৃথিবীর যেকোন প্রান্ত কিংবা দেশের যেকোন জায়গা থেকে কোচ তোমার জন্য সেশন রাখতে পারেন। সরাসরি তুমি তখন তোমার টেকনিকের খুঁটিনাটি কোচের কাছ থেকে বুঝে নিতে পারো। আবার তোমার ট্রেনিংয়ের ভিডিও কোচকে পাঠাতে পারো, সেটি দেখে কোচ তোমাকে মূল্যায়ন করতে পারেন। 

সাধ আর সাধ্যের এ সমন্বয় ঘটাতেই উদ্যোগ নিয়েছে ‘খেলবেই বাংলাদেশ’। সুযোগ কিংবা অর্থের অভাবে কারও স্বপ্নই যেনো থেমে না থাকে, সে ভাবনা থেকেই দেশসেরা কোচ ও ক্রীড়াবিদদের নিয়ে অনলাইন ভিত্তিক বিভিন্ন ট্রেনিং প্রোগ্রাম চালু করেছে প্লাটফর্মটি। বিস্তারিত জানতে ভিডিজ করুন

অনলাইন স্পোর্টস ট্রেনিং: খেলাধুলার ভবিষ্যত

সন্দেহ নেই সেরা কোচিং ফ্যাসিলিটিজ এক সময় খুবই সীমিত ছিলো, শুধুমাত্র এলিট অ্যাথলেটরা যা ব্যবহারের সুযোগ পেতো। অনেক বড় ক্রীড়াবিদ/অ্যাথলেট আছেন আন্তর্জাতিক বা লোকাল কোন বড় ইভেন্টকে সামনে রেখে দেশের বাইরে উচ্চ প্রশিক্ষন নিতে চলে যায়। বিশ্বসেরা কোচের অধীনে নিজেকে ঝাঁলিয়ে নিয়ে সেরা সাফল্য আদায় করে নেন তাঁরা। 

কিন্তু, তথ্য-প্রযুক্তির ব্যাপক উন্নতি হওয়ার কারণে এখন আর সেটি করতে হচ্ছে না। বরং ঘরে বসেই নিজের পছন্দের কোচের টিপস পাওয়া যাচ্ছে। অনেকেই নিজের ট্রেনিং ভিডিও পাঠাচ্ছেন কোচদের কাছে, কোচের পরামর্শের ভিত্তিকে নিজেকে আরও শাণিত করছেন। 

করোনা ভাইরাসের এ সময়টার কথাই ধরুন। আপনার আর্থিক সঙ্গতি যতোই ভাল থাকুক না কেন, আপনি চাইলেই বিদেশে গিয়ে প্রশিক্ষন নিতে পারছেন না। দেশের অনেক ফুটবলার কিংবা ক্রিকেটার আছেন লকডাউনের কারণে লম্বা সময় গ্রামের বাড়িতে ফিরে গেছেন। এতেকোরে কিন্তু তারঁ ট্রেনিংয়ে কোন বাঁধা তৈরী হচ্ছে না। বিদেশে বসেই তাঁদের জন্য ট্রেনিং প্রোগ্রাম তৈরি করে দিচ্ছেন কোচ বা ট্রেইনাররা। 

সবচেয়ে বড় কথা অনলাইন ট্রেনিং প্রোগ্রামগুলো হবে খুবই সহজলভ্য আর সস্তা। আপনি চাইলেই নিজের পছন্দ মতো প্যাকেজ কিনে নিতে পারবেন, পাবেন সেরা ট্রেনিং প্রোগ্রাম। এটিএম মেশিন, অনলাইন ব্যাংকিং, ই-লার্নিং এগুলোর সঙ্গে যেমন আমরা আস্তে আস্তে মানিয়ে নিয়েছি, একইভাবে অনলাইন স্পোর্টস ট্রেনিং প্রোগ্রামের সঙ্গে আমাদের মানিয়ে নিতে পারবো। এ প্রক্রিয়ার সঙ্গে যতো দ্রুত আমরা মানিয়ে নিতে পারবো ততোই উপকার হবে আমাদের। 

leaderboard-banner