logo
৬ সহজ টিপস মানলেই হতে পারবে বড় ক্রিকেটার

আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশ দলের সাফল্যের সঙ্গেই সারা দেশেই বাড়ছে ক্রিকেটের জনপ্রিয়তা। জাতীয় দলে খেলার স্বপ্ন নিয়ে অনেকেই ছোট বয়স থেকেই নিজেকে প্রস্তুত করছে। স্থানীয় কোচের অধীনে হয়তো নিজের চোখে উন্নতিও হচ্ছে কিন্তু, সত্যিকার অর্থেই কি উন্নতি হচ্ছে? সেটি বুঝতে হলে নিজের যোগ্যতা/অযোগ্যতা সবসময়ই ‘ক্রিটিকালি’ মূল্যায়ন করতে হবে এবং অবশ্যই নিজেকে। নিজেরই জানতে হবে, আমি আসলে কোন অবস্থায় আছি? ক্রিকেটার হিসেবে নিজের উন্নতি করতে, জেনে নিতে পারো দারুন ৬টি টিপস। টিপসগুলো যদি তুমি সিরিয়াসলি মেনে নিজেকে প্রস্তুত করতে পারো, তাহলে ধরে নিতে পারো তোমার স্বপ্ন পূরণের পথে অনেকটা পথ তুমি ভাল মতো পাড়ি দিতে পেরেছো। 

১. মনযোগ দিয়ে টিভিতে/মাঠে দেখতে হবে ম্যাচ 

২. ধৈর্য্য নিয়ে অনুশীলন করতে হবে

৩. নিজের দূর্বলতা স্বীকার করো এবং সেভাবে কাজ করো

৪. নিজের শক্তি সম্পর্কে ভালভাবে জানো

৫. খেলার মধ্যে নিজেকে সবসময় রাখো

৬. নিজের উপর বিশ্বাস হারানো যাবে না

leaderboard-banner

 

১. মনযোগ দিয়ে টিভিতে/মাঠে দেখতে হবে ম্যাচ 

সবারই পছন্দের ক্রিকেটার থাকবে। আর সে পছন্দের ক্রিকেটারের খেলা দেখে নিজের টেকনিক/স্কিলের উন্নতি করে অনেকেই। টেলিভিশনে যখন ম্যাচ চলে তখন নিজের প্রিয় দল কিংবা ক্রিকেটারের খেলা দেখতে সবাই বসে পড়ে টিভি সেটের সামনে। অনেকেই খেলার মুহুর্তগুলো ভুলে জয়/পরাজয়ের দিকে বেশি উৎসাহী হয়ে যাই। এখানেই একটু কৌশলি হতে হবে। 

খেলা অবশ্যই দেখতে হবে মনযোগ দিয়ে সঙ্গে ধারাভাষ্য শুনতে হবে আরও গুরুত্ব দিয়ে। তখন, ক্রিকেটারদের শক্তি/দূর্বলতা সম্পর্কে ভাল ধারনা পাওয়া যাবে। ব্যাপারটা এমন না সেরা ক্রিকেটাররও কোন দূর্বলতা নেই। অবশ্যই থাকে, সেটা প্রকাশ পায় ম্যাচ চলাকালীন। খেলাটা মনযোগ দিয়ে দেখলে শক্তি/দূর্বলতা জানা যায় সহজে। 

শাহরিয়ার নাফিসের টিপস

২. ধৈর্য্য নিয়ে অনুশীলন করতে হবে

আমরা বড় ক্রিকেটার হতে চাই কিন্তু, অনেকেই বড় ক্রিকেটারের মতো পরিশ্রম করতে চাই না। ধৈর্য্য নিয়ে প্রাকটিস করতে চাই না।  যেমন-নেটে ব্যাটিং অনুশীলনের সময় অনেকেই বলে থাকেন, নেটে ব্যাটিংয়ের সময় বল কেন ছাড়বো? এখন তো আর ম্যাচ হচ্ছে না। কিন্তু, আমরা ভুলে যাই নেটে যা প্রাকটিস করবো সেটাই ম্যাচে আমরা প্রয়োগ করবো। এখন নেট প্রাকটিসের সময় যদি আমরা ভাল বল ছাড়ার অভ্যাস তৈরি না করি, তাহলে ম্যাচে গিয়েও ভাল বল খেলতে ইচ্ছে করবে। সেখানেই হবে বিপত্তি। সুতরাং, প্রাকটিস অবশ্যই হতে হবে ম্যাচ প্রস্তুতির অংশ। 

এখানে আরেকটা টিপস জেনে নেয়া দরকার। নেটে প্রাকটিসের সময়ও বোলার কিংবা ব্যাটসম্যানের টার্গেট থাকা উচিত। যেমন- যে বোলিং প্রাকটিস করছো, সে হয়তো টার্গেট করে নিলে ৫ উইকেট নিবে। সুতরাং ব্যাটসম্যানকে বোলিং করার সময় সেভাবে বল করতে হবে। নিজে নিজে কাউন্ট করতে হবে নিজের টার্গেট পূরণ হলো কি,না? ব্যাটসম্যানদের বেলায়ও একই নিয়ম। যতো সময় ব্যাটিং প্রাকটিসের সুযোগ পাচ্ছো, এ সময় কতো রান করতে চাও? সেটি মাথায় রাখতে হবে। আর এ সময় কোন বলে, কিভাবে আউট হতে পারতে সেটিও মাথায় রেখে কাজ করতে হবে। 

বোলিং এর টিপস

 

৩. নিজের দূর্বলতা স্বীকার করো এবং সেভাবে কাজ করো

আমাদের মধ্যে অনেকেই আছে যারা নিজের দূর্বলতা কখনও স্বীকার করতে চায় না। এটা অনেক বাজে অভ্যাস। তুমি যদি তোমার দূর্বলতা স্বীকার না করো এবং সেটি নিয়ে যদি কোন কাজ না করো, তাহলে কখনও তুমি তোমার কাংখিত লক্ষ্যে যেতে পারবে না। 

এখানে একটা উদাহরণ দিলে বিষয়টা আরও পরিষ্কার হবে। ভিরাট কোহলি যখন ২০১৪’তে ইংল্যান্ড সফরে যান তখন, সেখানকার বাউন্সি উইকেটে পেসারদের খেলতে বেশ সমস্যায় পড়েন। আউটসাইড দ্য অফ স্ট্যাম্পের বল খেলতে গিয়ে বেশিরভাগ সময় তিনি আউট হন। নিজের আউট হওয়ার ধরন নিয়ে পরবর্তীতে আলাদা করে কাজ করেন ভিরাট। তার সাফল্য আসে ঠিক ৪ বছর পর, ইংল্যান্ড সফরে। সিরিজের সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক ছিলেন ভিরাট কোহলি। তাই নিজের দূর্বলতা স্বীকার করা মানে কখনও হেরে যাওয়া না। বরং নিজেকে নতুন করে আবিষ্কার করা। 

সব খেলার সব তথ্য পেতে  সাবস্ক্রাইব কর আমাদের  YouTube  চ্যানেল 

blog22

 

৪. নিজের শক্তি সম্পর্কে ভালভাবে জানো

ব্যাটসম্যান কিংবা বোলার হিসেবে নিজের শক্তিমত্তার জায়গা সম্পর্কে ভাল ধারনা থাকা খুবই জরুরি। সেটি নিয়ে যদি ঠিক মতো কাজ করা যায় তাহলে নিজের পারফর্মেন্স আরও ভাল করা সম্ভব। ধরো ব্যাটসম্যান হিসেবে তুমি অফসাইডে অনেক স্ট্রং। ম্যাচে যদি অফসাইডের বল তুমি ছেড়ে দিতে থাকো, এক সময় দেখবে বোলার তোমাকে স্ট্রেইট স্ট্যাম্পের উপর বল দিচ্ছে। নিজের জোনে পাওয়া বল তখন তুমি ইচ্ছে মতো খেলতে পারবে। আবার স্ট্যাম্পের উপর বল রাখতে গিয়ে হয়তো লেগ সাইডে ১/২ টা বল করে ফেলছে বোলার। সেগুলো হয়তো তোমার রান পাওয়ার ক্ষেত্রে সাহায্য করবে। 

একই কথা বোলারদের জন্য। যদি পেস বোলার হিসেবে তুমি জানো, তোমার সুইং কিংবা কাটার তোমার সেরা শক্তি। সেটি নিয়েই বেশি করে কাজ করো। ম্যাচে দেখবে ভাল ফল পাবে। পেসারদের জন্য দারুণ সব টিপস দিয়েছেন জাতীয় দলের সাবেক পেসার ও বোলিং কোচ তালহা যুবায়ের। কোচিং মডিউল থেকে বোলিং টিপসের ক্লাশগুলো করতে পারো। নিজের বোলিং আরও শাণিত হতে পারে তা’তে। 

৫. খেলার মধ্যে নিজেকে সবসময় রাখো

অনেকেই আছে নিজের বোলিং কিংবা ব্যাটিং শেষ হয়ে গেলে সেভাবে মনযোগ দিয়ে খেলার মধ্যে থাকে না। তুমি তোমার কাজ করেছো মানে কাজ শেষ হয়ে গেছে সেটি ভাবার কোন কারণ নেই। বরং ম্যাচের প্রতিটি মুহুর্তের সঙ্গে নিজেকে জড়িয়ে রাখতে হবে। বিশেষ করে অধিনায়কদের কর্মকান্ড বেশ ভাল করে খেয়াল রাখতে হবে। 

কোন ব্যাটসম্যানের জন্য কোন ফিল্ড পজিশন সাজানো হলো, কোন পরিস্থিতিতে কোন বোলারকে ব্যবহার করা হলো? সেগুলো ভাল মতো খেয়াল রাখতে হবে। অনেক সময় অধিনায়ক তাঁর পরিকল্পনায় সফল হবেন আবার অনেক সময় ব্যর্থ হবেন। দু’টোই কিন্তু ক্রিকেটার হিসেবে তোমার অভিজ্ঞতা। আবার ফিল্ডার হিসেবে তুমি হয়তো ইনার সার্কেলে ভাল, কিন্তু তোমার ‘থ্রোয়িং’খুব ‘স্ট্রং’ না। অনেক সময় সেটিও ম্যাচের গতিপথ বদলে দিতে পারে। তুমি ম্যাচে নিজেকে ‘ইনভলভ’ রাখলে ম্যাচ পরিস্থিতি অনুযায়ী তুমি ‘ফিল্ড পজিশন’ বদলে নিতে পারবে। 

ম্যাচ প্রস্তুতি ও ম্যাচে কিভাবে আরও ভাল করা যায় এ নিয়ে ট্রেনিং মডিউল আছে আমাদের। সেখান থেকে নিজেকে আরও পরিপক্ক করতে পারো তুমি। 

৬. নিজের উপর বিশ্বাস হারানো যাবে না

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ টিপস হচ্ছে এটি। আত্মবিশ্বাস হচ্ছে সবচেয়ে বড় শক্তি। নিজের উপর বিশ্বাস না থাকলে, উপরের ৫ টিপস থেকে কোন উপকার পাবে না। নিজের পারফর্মেন্সের উপর তা’তে নেতিবাচক প্রভাব পড়ে। ভাল ক্রিকেটার হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে চাইলে আত্মবিশ্বাস বাড়াতে হবে। 

বিশেষ করে যদি কখনও, বাজে ফর্মের মধ্য দিয়ে যাও তখন নিজের উপর বিশ্বাস রাখাটা সবচেয়ে জরুরি। নিজেকে বুঝাতে হবে ক্রিকেটার হিসেবে তোমার যোগ্যতা অনেক বেশি, সময়টা হয়তো খারাপ যাচ্ছে। আর এ খারাপ সময় থেকে ঠিকই বের হয়ে আসার সুযোগ আছে। মানসিকভাবে নিজেকে আরও দৃঢ় করতে আত্মবিশ্বাস জরুরি। 

মানসিক দৃঢ়তা বাড়ানোর টেকনিক নিয়ে কোচিং মডিউল আছে। সেখান থেকে জেনে নিতে পারো দরকারি অনেক কিছু। 

 

video